রক্তধারা

চাঁদপুর শহরের পর্যটক আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু বড় ষ্টেশন। এই বড় ষ্টেশনে প্রবেশের কিছু পরেই দেখা যায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ভাস্কর্য রক্তধারা। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির ধারক এই ভাস্কর্যটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে।

‘রক্তধারা’ ভাস্কর্যটি যেন ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের ভয়াবহ রক্তাক্ত নির্মমতার কথাই বারংবার স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুর শহরের পশ্চিমপ্রান্তে মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় পুরান বাজার এবং বড় স্টেশনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কয়েকটি নির্যাতন কেন্দ্র স্থাপন করে। যাকে পাকিস্তানিরা বলতো ‘টর্চার সেল’

নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার ও রেলগাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনে যারা চাঁদপুরে পৌঁছতো, সন্দেহ হলে তাদেরকে আটকে রেখে এখানে নির্যাতন করা হতো। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে স্বাধীনতাকামী নারী-পুরুষদের এই টর্চার সেলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হতো। শেষে হাত-পা বেঁধে জীবন্ত, অর্ধমৃত বা হত্যা করে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর খরস্রোতে ফেলে দিতো। সে সময় হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকার, আল বদর, আল শামস এই হত্যাযজ্ঞে সহযোগিতা করতো।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার শিকার বীর শহীদের স্মরণে ২০১১ সালে মোলহেডের সন্নিকটে নির্মিত হয় স্মৃতিসৌধ ‘রক্তধারা’। তৎকালীন জেলা প্রশাসক প্রিয়তোষ সাহা স্মৃতিসৌধটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এটি উদ্বোধন করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যাতায়াত
ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী যে কোন লঞ্চে করে নামতে হবে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে, এরপর অটো বা রিকশায় বড় ষ্টেশন বললেই নিয়ে যাবে। ঢাকা থেকে বাসেও চাঁদপুর যাওয়া যায়। বাস স্ট্যান্ড থেকেও অটো করে বড় ষ্টেশন যাওয়া যায়, বড় ষ্টেশন গিয়ে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দিবে রক্তধারা ভাস্কর্যটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *