কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ইনস্টিটিউট

‘যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি’ কিংবা ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ কিংবা ‌`আশু গৃহে তার দেখিবে না আর নিশীথে প্রদীপ বাতি’। বিখ্যাত এই চরণদ্বয়ের রচয়িতা কবি, সাংবাদিক ও শিক্ষক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।

বিভিন্ন কবি ও সাহিত্যিক তাদের লেখনীর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ভাণ্ডারকে করছেন সমৃদ্ধ। যার কারণে আমরা পেয়েছি একটা বৃহৎ সাহিত্যভাণ্ডার। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ছিলেন এমনই একজন কবি যিনি বাংলার সাহিত্য ভাণ্ডারকে তার লেখনীর মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর রচনা প্রসাদগুণসম্পন্ন এবং তাঁর কবিতার অনেক পঙক্তি প্রবাদ বাক্যস্বরূপ।

সাহিত্যিক ও সাংবাদিক কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার সেনহাটি ইউনিয়নের সেনহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর স্মৃতি বিজড়িত স্থান এবং ব্যবহার্য জিনিস পত্র নিয়ে তৈরি করা হয়েছে কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ইনস্টিটিউট জাদুঘর। ইনস্টিটিউট জাদুঘরে রয়েছে অনেক দুর্লভ ও মূল্যবান গ্রন্থ। কুমুদ বন্ধু স্মৃতি মন্দিরের সামনে ভৈরব নদীর কাছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। এ ছাড়াও জাদুঘরে কবির স্মৃতিবিজড়িত বই এবং ব্যবহার্য জিনিসপত্র।

কৃষ্ণচন্দ্র ১৮৫৪ সালে বরিশালের কীর্তিপাশা বাংলা বিদ্যালয়ের প্রধান পন্ডিতপদে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি ঢাকার নর্মাল স্কুলে যোগদান করেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ায় চাকরি ছেড়ে তিনি মডেল স্কুলে (১৮৬০) যোগ দেন। এভাবে তিনি বিভিন্ন স্কুলে দীর্ঘ উনিশ বছর শিক্ষকতা করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন খুবই নিষ্ঠাবান। অনেক কীর্তিমান ব্যক্তি তাঁর ছাত্র ছিলেন।

কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সদ্ভাবশতক’ প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে। তাই পরিণত বয়সে তিনি ‘রামের ইতিবৃত্ত’ (১৮৬৮) নামে একটি আত্মচরিত রচনা করেন। মহাভারতের ‘বাসব-নহুষ-সংবাদ’ অবলম্বনে রচিত তাঁর অপর গ্রন্থ হলো ‘মোহভোগ’ (১৮৭১) কৈবল্যতত্ত্ব (১৮৮৩) তাঁর একটি দর্শন বিষয়ক গ্রন্থ। মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় তাঁর নাটক ‘রাবণবধ’। এ ছাড়া তাঁর অপ্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পনেরো। কৃষ্ণচন্দ্র সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মনোরঞ্জিকা, কবিতা কুসুমাবলী ও দ্বৈভাষিকী। শেষ জীবনে কৃষ্ণচন্দ্র সেনহাটিতে বসবাস করেন এবং বিবিধ রকমের সঙ্গীত রচনা করে অবসর জীবন কাটান। ১৯০৭ সালের ১৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

যাতায়াত
খুলনা শহর থেকে যে কোন যানবাহনে খান জাহান আলী সেতু-তে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে সরাসরি সড়কপথে খুলনায় যাওয়া যায়। ঢাকা ও খুলনার মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছে- হানিফ এন্টারপ্রাইজ, গ্রিন লাইন, ঈগল পরিবহন ইত্যাদি। ভাড়া শ্রেণিভেদে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা।

এছাড়া রেলযোগেও খুলনা যাওয়া যায়। এজন্য ঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও চিত্রা এক্সপ্রেস নামে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে।

খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন বাজারের প্রাণকেন্দ্রে কবি কৃষ্ণচন্দ্র ইনস্টিটিউটের অবস্থান। খুলনা জেলা থেকে সড়ক পথ বা নদী পথে সেনহাটি বাজার আসা যায়। এছাড়া দিঘলিয়া উপজেলা থেকে সড়ক পথে ভ্যান/ইজিবাইক যোগে সেনহাটি বাজারে আসা যায়।

রাত্রিযাপন
থাকার জন্য খুলনায় রয়েছে বেশ কিছু আবাসিক হোটেল। তাদের মধ্যে কয়েকটি হলো- সিএসএস রেস্ট হাউজ (০৪১-৭২২৩৫৫), হোটেল ক্যাসেল সালাম (০৪১-৭৩০৭২৫), হোটেল রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল (০৪১-৮১৩০৬৭-৯), প্ল্যাটিনাম জুট মিলস লিমিটেড রেস্ট হাউজ (০৪১-৭৬২৩৩৫), এলজিইডি রেস্ট হাউজ (০৪১৭২৩১৮৩)।

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার শিক্ষা-সংস্কৃতিতে ঈর্ষণীয় সমৃদ্ধ সেনহাটীতে শৈশবস্মৃতির এ কবির শেষ স্মৃতিচিহ্নগুলোও হুমকির সম্মুখীন। অযত্ন-অবহেলায় দরিদ্রদশা। ভিটা বলতে শুধু নামেই। কবির কোনো আত্মীয়-স্বজন এখানে থাকেন না। বসতভিটার কোনো চিহ্নও নেই। যে পুকুরটি ছিল সেটি দখল করে ভরাটের পর উঠেছে পাকা দালান। সামনের মাঠের দুই প্রান্তে দুটি প্রায় শতবর্ষী মন্দিরও ধুঁকছে।

তথ্যসূত্র
কবি কৃষ্ণচন্দ্র ইনস্টিটিউট – khulna.gov.bd
মজুমদার, কৃষ্ণচন্দ্র – বাংলাপিডিয়া
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার – উইকিপিডিয়া
খুলনার কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ইনস্টিটিউট – বাংলাদেশ টাইমস্

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *